সিএসইর লেনদেন সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বাজারসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ

সম্প্রতি চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে লেনদেনের সময়সীমা সকাল ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে লেনদেনের সময়সীমা সকাল ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সময়সূচিতে পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করতে এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি থেকে নতুন সময়সীমা অনুসারে লেনদেন করতে চায় সিএসই। যদিও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সময়সীমা ১০টা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ অবস্থায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচি নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সিএসইর লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, কোনো একটি দেশে একই টাইম জোনে একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে পৃথক লেনদেনের সময়সূচি থাকার বিষয়টি নজিরবিহীন ও চিন্তাবহির্ভূত। ডিএসই ও সিএসই উভয় এক্সচেঞ্জে একই সিকিউরিটিজ কেনাবেচা হয়। প্রতিদিন একই সময়ে একই সঙ্গে লেনদেন শুরু হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারী উভয় এক্সচেঞ্জ যাচাই-বাছাই করে প্রতিযোগিতামূলক উপযুক্ত দরে তাদের চাহিদামাফিক শেয়ার কেনাবেচা করে। ডিএসইর চেয়ে সিএসইর শেয়ারের পরিমাণ ৫ শতাংশের মতো। লেনদেন কার্যক্রম ও পরিমাণের দিক থেকে সিএসইর অবস্থান বিবেচনা করলে পরিমাণস্বল্পতা এবং সব ব্রোকারের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ার কারণে লেনদেনের শুরুতে শেয়ারদর নির্ধারণ বাধাগ্রস্ত হবে। উভয় এক্সচেঞ্জে পৃথক লেনদেন সময়সূচির ফলে দ্বৈত সদস্য কোম্পানিগুলোয় লেনদেনসেবা ও কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এতে হাউজগুলোয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে বাজার ও বিনিয়োগকারীর আস্থায় এবং সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডিবিএ আরো বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থার কারণে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। তাই বিনিয়োগকারী ও বাজারের স্বার্থে সিএসইর নতুন লেনদেন সময়সূচির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে বিদ্যমান সময় সকাল ১০টায় বহাল রাখার জন্য সিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সিএসইর নতুন লেনদেন সময়সূচির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদম্যান আইনি কাঠামো অনুসারে লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণের এখতিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের। তাই এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই। বাজার যদি স্বাভাবিক গতিতে চলে এবং কারসাজি না হয় তাহলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। লেনদেন শুরু হলে আশা করি এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে, লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিটি স্টক এক্সচেঞ্জের নিজস্ব লেনদেন বিধিমালা রয়েছে, যা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত। এ বিধিমালা অনুসারে লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণের এখতিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের সময় একই রাখবে, নাকি ভিন্ন হবে সেটি এক্সচেঞ্জের ব্যাপরা, এ বিষয়ে কমিশনের কিছু বলার নেই।’

আরও